চাকর-বাকর থাকা সত্ত্বেও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন।


 চাকর-বাকর থাকা সত্ত্বেও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন। 


নবিজির সব প্রয়োজনীয় কাজগুলো তিনি করতেন নিজ হাতে। আটা পিষা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, বিছানা গোছানো, রাসূলের ওযুর পানি এগিয়ে দেওয়া, তাঁর কুরবানির পশুর মালা বানানোসহ সবকাজই করতেন তিনি। 


এ ছাড়া তিনি নিজ হাতে রাসূলের চুল আঁচড়ে দিতেন। সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন। তাঁর কাপড়-চোপড় ধুয়ে দিতেন। রাতের বেলা মেসওয়াক বানিয়ে দিতেন তাঁকে। সেই মেসওয়াক আবার সুন্দর করে ধুয়ে রাখতেন। 

তেমনিভাবে রাসূলের ঘরে আসা মেহমানদের যাবতীয় মেহমানদারির ব্যবস্থাও করতেন তিনি। তাঁর মেহমানদারীর কথা তুলে ধরেছেন আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট সাহাবি কায়স গিফারি রা.। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা আমাদেরকে বললেন, আয়েশা রা. –এর ঘরে যেতে। আমরা সেখানে গেলে তিনি বললেন, হে আয়েশা! খাওয়ার ব্যবস্থা কর আমাদের। তিনি তখন হাশিশা (গম পিষে তাতে গোশত বা খেজুর দিয়ে বানানো খাবার বিশেষ) পরিবেশন করলেন আমরা তা খেলাম। 


তারপর তিনি আবার বলেলেন, হে আয়েশা! আরো খাবার দাও আমাদেরকে। এবার তিনি কবুতরের মতো সামান্য হাইসা নিয়ে আসলেন। আমরা খেয়ে নিলাম সেটাও। তারপর তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমাদেরকে পান করাও। তখন তিনি এক গামলা দুধ আনলেন। আমরা সবাই পান করলাম সেখান থেকে। পুনরায় আয়েশা রা.র নিকট তিনি পানীয় চাইলে তিনি ছোট এক পেয়ালা পরিবেশন করলেন। সেটাও পান করে নিলাম আমরা। 


[ইলহাম  ILHAM থেকে প্রকাশিতব্য ‘রাসূলের (সা:) সংসার জীবন’ বই থেকে]

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একবার ভেবেছিলাম, নৌকা নিয়ে এই নদীপথে যদি চলতে থাকি তাহলে কি একদিন আমি পৌঁছে যাবো হিজাযের ভূমিতে

আমার পছন্দের একটি দোয়া