একবার ভেবেছিলাম, নৌকা নিয়ে এই নদীপথে যদি চলতে থাকি তাহলে কি একদিন আমি পৌঁছে যাবো হিজাযের ভূমিতে

 একবার ভেবেছিলাম, নৌকা নিয়ে এই নদীপথে যদি চলতে থাকি তাহলে কি একদিন আমি পৌঁছে যাবো হিজাযের ভূমিতে! নাকি সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙ্গে যাবে আমার নৌকা! ডুবে যাবে আমার স্বপ্ন! সেদিন নদীর বুকে নৌকায় বসে আমার বুকে অপূর্ণ স্বপ্নের যে বেদনা জেগেছিলো, মনে হলে এখনো হৃদয়ে মধুর অনুভূতি জাগে। সেই বেদনা আবার আরো বেশি করে পাওয়ার ইচ্ছা জাগে। উপরে তারাভরা আকাশে তাকিয়েছিলাম ব্যাকুল নয়নে। তারকার ঝিলিমিলি ছাড়া কিছু দেখিনি, কিন্তু বিশ্বাস ছিলো, এই ঝিলমিল তারকার আলোক- সজ্জার আড়ালে যিনি আছেন তিনি দেখতে পান এবং শুনতে পান। তিনি দয়া করেন এবং দান করেন। তাই হৃদয়ের সবটুকু আকুতি ঢেলে সেদিন দু'আ করেছিলাম আম্মার জন্য, আব্বার জন্য এবং নিজের জন্য; সবার স্বপ্নের পূর্ণতার জন্য।


... তখন ছিলো লটারী নামের বেদনাদায়ক এক উৎকণ্ঠা, নাম আসবে কি আসবে না; কী আছে ভাগ্যে, হাসি, না কান্না! আব্বার মুখমণ্ডলে আশা ও আশংকার এক অপূর্ব আলো-ছায়া। একবার যেন চাঁদের আলো, একবার যেন মেঘের ছায়া। আব্বার নাম যখন ঘোষিত হলো, তিনি বসা থেকে উঠলেন এবং ওঠা থেকে বসলেন। তিনি হাসলেন এবং কাঁদলেন। মুখে হাসি, চোখে কান্না। হায়, তোমাকে যদি দেখাতে পারতাম বাইতুল্লাহর মুসাফিরের মুখমণ্ডলে আলো-ছায়া ও হাসি-কান্নার অপূর্ব মিলনের সে সৌন্দর্য! এখনো আছে হজ্বের মুসাফির, নেই শুধু সেই হাসি-কান্নার মিলনদৃশ্য!


"বাইতুল্লাহর মুসাফির" বই থেকে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার পছন্দের একটি দোয়া

চাকর-বাকর থাকা সত্ত্বেও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন।